April 19, 2026, 11:50 am

বিএনপির ৬ সমর্থকে কোপালো ছাত্রলীগ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে বিএনপির ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শাওনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মালেক খান (৪০), নজরুল সরদার (২২), রমজান সরদার (৩৫), সামছুল সরদার (২৮), আলমগীর সরদার (৩২) ও মহসিন সরদার (২৯)। আহতদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। ঈদ এলেই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, এবারের ঈদকে সামনে রেখে শাওন দেশে ফিরে এসে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে বিএনপি নেতা মালেক খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুক্রবার মীমাংসার দিন নির্ধারিত থাকায় মালেক খানসহ কয়েকজন শাওনের বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর শাওন, রিফাতসহ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় বিএনপির ছয়জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। দ্রুত তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহতদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় দ্বীন ইসলাম ও রিফাত নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, “৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা শাওনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রিফাতের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আমরা দ্বীন ইসলাম ও রিফাতকে আটক করেছি। এখনো মামলা হয়নি, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা